
কাজী নুর নবী, জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ: দেশের সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি মানবিক ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবসমাজকে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে নওগাঁয় ফ্রিল্যান্সিং ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মতো যুগোপযোগী এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি)। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (১০ জুন ২০২৬) ‘সীমান্ত ফ্রিল্যান্সিং এন্ড কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেন্টার’-এর সফল প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ ও উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কড়িয়া বিওপি ও ভূটিয়াপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অত্যন্ত সফলতার সাথে দুটি আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। কড়িয়া বিওপি সংলগ্ন কেন্দ্রটি গত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে যাত্রা শুরু করে। এ পর্যন্ত ৩টি ব্যাচে মোট ৩৬ জন তরুণ-তরুণী এখান থেকে সাফল্যের সাথে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে ৪র্থ ব্যাচে আরও ১০ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
অন্যদিকে, ভূটিয়াপাড়া বিওপির আওতাধীন ধলাহার ইউনিয়ন পরিষদে গত ১৮ আগস্ট ২০২৪ সাল থেকে চলমান অপর কেন্দ্রটিতে ইতোমধ্যে ৪টি ব্যাচে মোট ৬৯ জন প্রশিক্ষণার্থী তাদের কোর্স সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে সেখানে ৫ম ব্যাচে ৬ জন প্রশিক্ষণরত রয়েছেন।
এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো—সীমান্ত এলাকার পিছিয়ে পড়া শিক্ষিত যুবসমাজকে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। কর্মসংস্থানের অভাবে সীমান্ত এলাকার তরুণরা যাতে মাদক, চোরাচালান বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই বিজিবি এই কারিগরি শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছে। ঘরে বসে ডলার উপার্জনের এই সুযোগ যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
বুধবার আয়োজিত সনদ বিতরণ ও আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের (১৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার, রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি), আনসার ও ভিডিপির উপ-মহাপরিচালক, জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক এবং পাঁচবিবি উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বিজিবির এই দূরদর্শী ও মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, বিজিবির এমন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড সীমান্ত এলাকার মানুষের মাঝে বাহিনীর প্রতি গভীর আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি করেছে। ভবিষ্যতেও প্রযুক্তি নির্ভর এই আত্মউন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।




