
ফৌজিয়া, সদরপুর (ফরিদপুর) | ০৭ এপ্রিল ২০২৬: ফরিদপুরের সদরপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা এবং পরবর্তীতে প্রশাসনের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় গণমাধ্যম অঙ্গন। এর প্রতিবাদে উপজেলা প্রশাসন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানা কর্তৃপক্ষের যাবতীয় সংবাদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে উপজেলার ৬ টি সাংবাদিক সংগঠন।
জানা গেছে, গত সোমবার স্থানীয় ‘সদরপুর ফিলিং স্টেশন’-এ জ্বালানি তেল পাচারের গোপন সংবাদ পেয়ে তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে যান ‘দৈনিক আমার সংবাদ’-এর প্রতিনিধি তোফাজ্জেল হোসেন টিটু এবং ‘দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন’ ও ‘জাগরণী টিভি’র প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন। এসময় পাম্পের মালিক মোহাম্মদ আলীর নির্দেশে একদল সন্ত্রাসী সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তাঁদের লাঞ্ছিত করে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলার পর তাঁরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে সেখানেও চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন। পুলিশের উপস্থিতিতেই সন্ত্রাসী বাহিনী পুনরায় তাঁদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় পুলিশ সন্ত্রাসীদের দমনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। পরবর্তী সময়ে ওসি’র পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের মামলা না করে ‘আপস’ করার প্রস্তাব দেওয়া হলে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল সোমবার রাত ৮টায় সদরপুর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এক জরুরি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সদরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় উপজেলার ৬ টি সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও কর্মরত সকল সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হবে আর প্রশাসন নীরব থাকবে—এটি মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের এই পক্ষপাতমূলক আচরণ ও নিষ্ক্রিয়তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বড় অন্তরায়।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন, এসিল্যান্ড অফিস এবং থানা পুলিশের কোনো সংবাদ প্রকাশ বা প্রচার করবেন না সাংবাদিকরা।
সভায় বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক শিমুল তালুকদার, সাব্বির হাসান, আবুল বাসার মিয়া, সোবাহান সৈকত, মো. নুরুল ইসলাম, সাঈদুর রহমান লাবলু, প্রভাত কুমার সাহা , দৈনিক ইনকিলাবের কবির হোসাইন ও ঢাকা ক্রাইম বিডির সম্পাদক ও প্রকাশক রাজীব হাসান প্রমূখ।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এই বর্জন কর্মসূচি বর্তমান প্রশাসনের সকল দাপ্তরিক কার্যক্রম ও প্রেস বিজ্ঞপ্তির ক্ষেত্রেও কার্যকর থাকবে।
বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সদরপুর এলাকায় সাংবাদিক ও প্রশাসনের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষও সাংবাদিকদের এই যৌক্তিক দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।




