
আব্দুল্লাহ আল মামুন: শরীয়তপুরের ডামুড্যায় চাঞ্চল্যকর পরেশ দাস (৮০) হত্যাকাণ্ডের প্রধান তিন আসামিকে কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। মাত্র ৬ লাখ টাকার জন্য ওই বৃদ্ধ পল্লী চিকিৎসককে প্রথমে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম করা হয় এবং পরবর্তীতে মৃত্যু নিশ্চিত করতে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় ঘাতকরা।
রবিবার (৪ জানুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যা ৬ঘটিকার সময় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব-৮ মাদারীপুর ক্যাম্প এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—সোহাগ খান (২৮), রাব্বি মোল্লা (২৪) এবং পলাশ (২৫)। তাদের সবার বাড়ি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, নিহত পরেশ দাস একজন পল্লী চিকিৎসক এবং বিকাশ-নগদের এজেন্ট ছিলেন। গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি ব্যবসা শেষ করে ৬ লাখ টাকা নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। ডামুড্যার তিলই বেপারীবাড়ি মসজিদের সামনে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর পথরোধ করে।
ঘাতকরা পরেশ দাসের কাছ থেকে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার সময় তিনি বাধা দিলে তারা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে মাথা, বুক ও পেটে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে নৃশংসতার চরম সীমা ছাড়িয়ে আসামিরা বৃদ্ধের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরেশ দাসের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যায়।
গুরুতর দগ্ধ ও জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিন দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গত ৩ জানুয়ারি সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। র্যাব-৮ (বরিশাল) এবং র্যাব-১৪ (কিশোরগঞ্জ) ছায়া তদন্ত শুরু করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘাতকদের অবস্থান শনাক্ত করার পর রবিবার (৪ জানুয়ারি) রাত ১টার দিকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় এবং সন্ত্রাস দমনে র্যাবের এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




