মাদারীপুরে গভীর রাতে ঘরে ঢুকে ডাকাতি ও হামলার অভিযোগ: দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি

আব্দুল্লাহ আল মামুন : মাদারীপুর জেলার চরখোয়াজপুর গ্রামে এক চাঞ্চল্যকর ডাকাতি ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার মঠের বাজার ডাকঘরের অন্তর্ভুক্ত চর-খোয়াজপুর গ্রামের বাসিন্দা হারুন চোকিদারের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১টার দিকে একদল সশস্ত্র লোক নিজেদের ‘আইনের লোক’ পরিচয় দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে লুটপাট ও হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা নাটক’ বলে দাবি করেছে।

হারুন চোকিদারের মেয়ে জানান, ঘটনার দিন মাগরিবের আজানের ঠিক আগে সাইফুল চোকিদার, নোমান চোকিদার ও রবিউল ব্যাপারিসহ প্রায় ২০-২৫ জন লোক সাতটি মোটরসাইকেলে করে তাদের বাড়িতে আসে। তারা হারুন চোকিদারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং হুমকি দেয় যে, রাতের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে না দিলে ঘরবাড়ি পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হবে।

পরবর্তীতে রাত ১টার দিকে তারা পুনরায় ফিরে আসে এবং নিজেদের ডিবি পুলিশ বা আইনের লোক পরিচয় দিয়ে দরজা খুলতে বাধ্য করে। ফাতেমার অভিযোগ, ঘরে ঢোকার পরপরই তারা তার মুখ বেঁধে ফেলে এবং গলায় ধারালো অস্ত্র ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এরপর তারা আলমারি ভেঙে নগদ ৫ লক্ষ টাকা এবং ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয়। ফাতেমা আরও জানান, এই অর্থ ও স্বর্ণ তার ভাইয়ের জন্য রাখা ছিল, যিনি লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে বর্তমানে চরম বিপদে পড়েছেন।

হারুন চোকিদারের স্ত্রী বলেন, “আমি অসুস্থ মানুষ, তাদের বারবার অনুরোধ করার পরেও তারা আমার হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। ভয়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। আমার ছেলের বিপদের জন্য রাখা সব কিছু তারা কেড়ে নিয়েছে। আমি এই সন্ত্রাসীদের বিচার চাই। মায়া বিবি নামে পরিবারের অন্য এক সদস্য জানান, প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত বাচ্চু চোকিদার ডাকাতির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ঘটনার মূল সূত্রপাত পাওনা টাকা নিয়ে। তিনি জানান, আসরের নামাজের পর বিদ্যা বালিশ এলাকায় সোহেল চোকিদারের কাছে তার পাওনা ২ লক্ষ টাকা চাইলে সোহেল ও তার সহযোগীরা বাচ্চু চোকিদারের ওপর হামলা চালায়।
বাচ্চু চোকিদার বলেন, “সোহেল আমাকে খুনের হুমকি দিয়ে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে। আমার দুই ভাইকেও তারা কুপিয়ে জখম করেছে। আমরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে আজ ফিরেছি। আমাদের ফাঁসানোর জন্য তারা ডাকাতির এই সাজানো নাটক সাজিয়েছে। যখন এই ঘটনা ঘটেছে দাবি করা হচ্ছে, তখন আমরা হাসপাতালে ছিলাম।

অভিযুক্ত পরিবারের এক নারী সদস্য দাবি করেন, পাওনা টাকা না দেওয়ার ফন্দি হিসেবেই এই ডাকাতির নাটক সাজানো হয়েছে এবং সাংবাদিকদের সামনে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যা বালিশ ও চরখোয়াজপুর এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী হারুন চোকিদারের পরিবার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যদিকে, বাচ্চু চোকিদারের পক্ষ থেকেও তাদের ওপর হামলার বিচার দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পৃক্ত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button