ভোটের আগেই নড়াইলে বিএনপিতে বড় ধাক্কা: বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় ৬ শীর্ষ নেতা বহিষ্কার

রাজনৈতিক প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তাপের মধ্যেই নড়াইল-২ আসনে বড় ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থার মুখে পড়ল বিএনপি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানোর অভিযোগে নড়াইল জেলা ও উপজেলার শীর্ষ ৬ নেতাকে বহিষ্কার করেছে দলটি।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে (আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ) এমন সিদ্ধান্তে নড়াইলের রাজনৈতিক মাঠে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

বহিষ্কৃত নেতারা সবাই নড়াইল সদর ও লোহাগড়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্বে ছিলেন। তারা হলেন—নড়াইল সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম পলাশ, পৌর বিএনপির সভাপতি তেলায়েত হোসেন, লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহাদুজ্জামান বাটু, সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম, লোহাগড়া পৌর বিএনপির সভাপতি মিলু শরীফ ও সাধারণ সম্পাদক মশিয়ার রহমান সান্টু। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, তাদের দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

জানা গেছে, নড়াইল-২ আসনে বিএনপির দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ড. এজেডএম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। তবে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে জেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম ‘কলস’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, দলের চূড়ান্ত প্রার্থীর বিপক্ষে গিয়ে বহিষ্কৃত এই ছয় নেতা প্রকাশ্যে বিদ্রোহী প্রার্থী মনিরুল ইসলামের পক্ষে কাজ করছিলেন।

দলের এমন কঠোর সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সদ্য বহিষ্কৃত লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহাদুজ্জামান বাটু। তিনি দাবি করেন, “দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও আনুগত্য সবসময় থাকবে। আমরা ধানের শীষের বিপক্ষে কোনো ধরনের প্রচারণায় অংশ নেইনি। তবে কেন্দ্রীয় দপ্তরের নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে। এই আসনে বিএনপির ড. এজেডএম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ (ধানের শীষ) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলাম (কলস) ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতে ইসলামীর আতাউর রহমান বাচ্চু (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যক্ষ মাওলানা তাজুল ইসলাম (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির খন্দকার ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ (লাঙ্গল) ও গণঅধিকার পরিষদের নুর ইসলাম (ট্রাক) সহ বেশ কয়েকজন প্রার্থী।

সম্পৃক্ত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button