সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মানবতার চাদর: শিবগঞ্জে শিতার্তদের পাশে ৫৯ বিজিবি

শাহীন আকতার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ: পৌষের কনকনে হাড়কাঁপানো শীতে যখন স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন, ঠিক তখনই চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সীমান্তঘেঁষা মানুষের দ্বারে উষ্ণতার পরশ নিয়ে হাজির হয়েছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ পরিচয় ছাপিয়ে এক মানবিক রূপ ধারণ করে বিজিবি সদস্যরা দাঁড়িয়েছেন অসহায় ও শীতার্ত মানুষের পাশে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি, ২০২৬) বেলা ১১টায় শিবগঞ্জ উপজেলার কিরণগঞ্জ বিওপির আওতাধীন ঈদগাহ মাঠে এক আবেগঘন পরিবেশে এই শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল থেকেই কনকনে শীত উপেক্ষা করে কিরণগঞ্জ ঈদগাহ মাঠে ভিড় করেছিলেন শত শত বৃদ্ধ, নারী ও শিশু। সবার চোখেমুখে ছিল শীতের কষ্ট দমানোর এক আকুতি। ৫৯ বিজিবির পক্ষ থেকে যখন তাদের হাতে একটি করে নতুন কম্বল তুলে দেওয়া হয়, তখন বয়োবৃদ্ধদের ক্লান্ত মুখে ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি। পরম মমতায় শিতার্তদের শরীরে কম্বল জড়িয়ে দেন বিজিবি কর্মকর্তারা। এই ৩০০টি কম্বল যেন নিছক বস্ত্র নয়, বরং সীমান্তবাসীর প্রতি বিজিবির ভালোবাসার এক প্রতীক।
দেশপ্রেম ও মানবতা যখন এক সুতায়:
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম কিবরিয়া, বিজিবিএম, বিজিওএম। তিনি নিজ হাতে অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল তুলে দেন। এ সময় তিনি বলেন, “বিজিবি শুধু সীমান্তে পাহারাই দেয় না, তারা এ দেশের মানুষের সুখে-দুঃখের অংশীদার। সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও চোরাচালান দমনের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও আমরা বদ্ধপরিকর। আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস যদি একজন মানুষেরও শীতের কষ্ট লাঘব করে, সেখানেই আমাদের সার্থকতা।
তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন যে, মহানন্দা ব্যাটালিয়ন ভবিষ্যতেও সীমান্তবাসীর যেকোনো প্রয়োজনে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপ-অধিনায়ক মেজর আব্দুল্লাহ আল-আসিফ এবং সহকারী পরিচালক শেখ মনোয়ারুল ইসলামসহ ইউনিটের বিভিন্ন পদবীর বিজিবি সদস্য ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

কম্বল পেয়ে আবেগপ্লুত এক বৃদ্ধা জানান, “বাবা, এই জাঁকিয়ে বসা শীতে রাতে ঘুমানো খুব কষ্টের ছিল। আজ এই নতুন কম্বলটা পেয়ে খুব উপকার হলো। বিজিবি বাবারা আমাদের কথা মনে রেখেছে, এতেই আমরা খুশি।”
সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ৫৯ বিজিবির এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় সচেতন মহলের ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে। সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরীদের এই ‘মায়ার পরশ’ শীতার্ত মানুষের হৃদয়ে যে উষ্ণতা ছড়িয়ে দিয়েছে, তা দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সম্পৃক্ত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button