নওগাঁয় মিতু হত্যা মামলার ৪ আসামী গ্রেফতার

 

কাজী নূরনবী ,নওগাঁ প্রতিনিধি:: নওগাঁ সদর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের বিলভবানীপুর পূর্বপাড়া গ্রামে চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ সকালে আসামি জাহান আলী মনতাসুর নামের এক ব্যক্তিকে ফোন করে জানায় যে তার বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে একটি লাশ রয়েছে।
খবর পাওয়ার পরদিন সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মনতাসুরের বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের ভিতর থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করে। পরে লাশটি মিস মিতু বানুর বলে শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় নওগাঁ সদর মডেল থানায় মামলা নং-৪৭, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোডে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মামলাটি দ্রুত তদন্তের জন্য পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ও সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ এখন পর্যন্ত চারজন আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
গত ৭ মার্চ প্রথমে আসামি জাহান আলীকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৯ মার্চ সামিদুল ও সুজ্জাতকে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে ১০ মার্চ রেন্টু ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ।গ্রেফতারকৃত আসামি সামিদুল ও জাহান আলী পুলিশের কাছে জানান, তারা ১২ হাজার টাকার চুক্তিতে মিস মিতু বানুকে নওগাঁ শহর থেকে বিল ভবানীপুর গ্রামে নিয়ে যায়।
সেখানে মালা নামের এক ব্যক্তির পরিত্যক্ত বাড়িতে জাহান আলী, রেন্টু ইসলাম, সুজ্জাত ও সামিদুলসহ আরও ১-২ জন অসামাজিক কার্যকলাপের উদ্দেশ্যে যায়।
এ সময় টাকা-পয়সা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে মিতু চিৎকার শুরু করেন।
এতে মান-সম্মানের ভয়ে রেন্টু ইসলাম তার মুখ ও গলা চেপে ধরে এবং অন্যরা হাত-পা চেপে ধরে রাখে।
কিছুক্ষণ পর মিতুর মৃত্যু হলে তারা তাকে ছেড়ে দেয়।
পরে রেন্টু ইসলামের পরামর্শে তারা বিল ভবানীপুর গ্রামের মনতাসুরের বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে লাশটি ঢুকিয়ে গোপন করে রাখে।এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামি সামিদুল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button