
রায়হান মিয়া, সদরপুর (ফরিদপুর) : ফরিদপুরের সদরপুরে বৃষ্টির সময় বসতঘরের টিনের চালে পল্লী বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রীসহ আরও তিনজন গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পূর্ব শৌলডুবি গ্রামের রব মাতুব্বরের বাড়িতে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুরে এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। এ সময় হঠাৎ করেই বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়া পল্লী বিদ্যুতের একটি সচল মেইন তার ছিঁড়ে রব মাতুব্বরের বসতঘরের টিনের চালের ওপর পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘর ও টিনের চাল বিদ্যুতায়িত হয়ে যায়। ঘরে থাকা সদস্যরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছটফট করতে থাকেন।
পরে প্রতিবেশীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ঘর থেকে চারজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেন। তাদের দ্রুত সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিলন মাতুব্বর (৩০) নামে এক যুবককে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বাকি তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আহতরা হলেন— সেখ ওবাইদুর (৪০), মিঠু মাতুব্বর (৩৫) এবং মিঠুর স্ত্রী হেনা আক্তার (২৫)। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের শরীরের অনেকটা অংশ দগ্ধ হওয়ায় অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দুর্ঘটনার বিষয়ে সদরপুর পল্লী বিদ্যুতের এজিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ওই সংযোগ থেকে জিআই তার দিয়ে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নেওয়ার কারণে এই শর্টসার্কিট ও দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি।
অন্যদিকে, সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন শাহ জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে, তার ছিঁড়ে এমন মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় পূর্ব শৌলডুবি গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পল্লী বিদ্যুতের জরাজীর্ণ তার ও রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলার অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, সঠিক সময়ে লাইন তদারকি করলে এমন অকাল মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হতো।
ক স্বজনের শেষ আর্তনাদ।




