
শফিকুল আলম ইমন, রাজশাহী: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের কমলাপুর ফসলের মাঠ এখন মুরগির বিষ্ঠার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। প্রভাবশালী নাবিল গ্রুপের মুরগির খামারের বিপুল পরিমাণ বর্জ্য রাতের আঁধারে খোলা মাঠে ফেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তীব্র দুর্গন্ধ আর মাছির উপদ্রবে এলাকাটি এখন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। প্রতিকার চাইতে গিয়ে স্থানীয়রা উল্টো প্রভাবশালী চক্রের হুমকি ও মারধরের শিকার হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফসলি জমি ও বিল এলাকার বিস্তৃত স্থান জুড়ে স্তূপ করে রাখা হয়েছে মুরগির পচা বিষ্ঠা। এই বর্জ্য থেকে ছড়ানো উৎকট গন্ধে আশপাশের গ্রামগুলোতে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছির উপদ্রব এতই ভয়াবহ যে ঘরে খাবার রাখা যাচ্ছে না। মাছির কারণে ছড়িয়ে পড়ছে নানা রোগ-জীবাণু। এছাড়াও পাশের পুকুরগুলোতে মাছ চাষ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি ফসলি জমির উর্বরতা ও পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় হযরত আলী নামের এক ব্যক্তি নাবিল গ্রুপের ঠিকাদারদের সাথে যোগসাজশে নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন জমিতে এই বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সাংবাদিকরা সরেজমিনে গেলে হযরত আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বরং সাংবাদিকদের সাথে উগ্র আচরণ করেন। উপস্থিত স্থানীয় ভ্যান চালককে প্রকাশ্যে হেলমেট দিয়ে মারধর করতে উদ্যত হন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি দায় চাপিয়ে দেন নাবিল গ্রুপের ওপর।
এ বিষয়ে নাবিল গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজার বেলাল হোসেন বর্জ্য ফেলার দায় সরাসরি অস্বীকার করে ‘থার্ড পার্টি’র ওপর দোষ চাপিয়েছেন। অথচ ঠিকাদার বাবলু সরকার দাবি করেন, প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই তারা এই বর্জ্য ফেলছেন। তবে এই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় প্রশাসন।
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদাত রত্ন বলেন, “তাদের অনুমতি দেওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আগেও তাদের জরিমানা করা হয়েছে, কিন্তু তারা রাতের আঁধারে আইন অমান্য করেই চলছে। আমি তাদের তলব করেছি, আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক তাসমিনা খাতুন জানান, নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালনার শর্তে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিয়ম ভেঙে জনভোগান্তি তৈরি করলে সেই ছাড়পত্র বাতিলের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই পরিবেশ দূষণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তারা বলছেন, প্রশাসন কেবল আশ্বাসের বাণীই দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আসছে না। অচিরেই এই বর্জ্য অপসারণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
গোদাগাড়ী থানার ওসি জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




