মাদারীপুরে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণ: বিয়ের কথা বলায় শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাদারীপুর | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: মাদারীপুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে (২০) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের পর ভুক্তভোগী তরুণী বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টাও করে অভিযুক্ত যুবক। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তরুণীর প্রাণ বাঁচায়। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে ওই তরুণী মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী ওই তরুণীর নাম মৌসুমি আক্তার (২০)। তিনি মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষের চর ফেরিঘাট এলাকার রশিদ খলিফার মেয়ে। অন্যদিকে অভিযুক্ত যুবকের নাম শান্ত ফরাজী। সে মাদারীপুর পৌরসভা সংলগ্ন শান্তিনগর এলাকার মান্নান ও সেলিমা বেগমের ছেলে। ওই এলাকায় তারা ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে।

হাসপাতাল  তথ্য ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শান্ত ফরাজীর সাথে ভুক্তভোগী তরুণী মৌসুমির গত ১ বছর ৪ মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। প্রেমের এই সম্পর্কে শান্ত বারবার তাকে বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শান্ত ভুক্তভোগী তরুণীকে শান্তিনগর এলাকায় তার আত্মীয় জসিম মাতুব্বরের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে ফাঁকা পেয়ে একটি ঘরের ভেতর আটকে রেখে ওই তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে শান্ত।

ঘটনার পর তরুণী কান্নাকাটি শুরু করেন এবং শান্তকে দ্রুত বিয়ের জন্য বলেন। এতে শান্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তরুণীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন।

পরবর্তীতে আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) উন্নত চিকিৎসার জন্য ভুক্তভোগী তরুণীকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে আনা হয়। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তরুণীর ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রেরণ করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সম্পৃক্ত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button