বিদেশি প্রভুদের ওপর নির্ভরতা নয়, হাতপাখা’র একক লড়াইয়ের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন নির্বাচন ও রাজনৈতিক জোট গঠন প্রক্রিয়ায় মেরুকরণের মধ্যেই নিজেদের কঠোর অবস্থান পরিষ্কার করল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। কোনো দলের সঙ্গে জোট বা আপস নয়, বরং নিজস্ব প্রতীক ‘হাতপাখা’ নিয়ে একাই নির্বাচনের মাঠে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম অভিযোগ করেছেন, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলো ইসলাম ও দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে আমেরিকা ও ভারতের সঙ্গে গোপন আঁতাতে লিপ্ত হয়েছে।

ইসলামী আন্দোলনের এই শীর্ষ নেতা দাবি করেন, বিএনপি, জামায়াত এবং তাদের সমমনা দলগুলো (যেমন- এবি পার্টি, এলডিপি) জনগণের সামনে এক কথা বললেও আড়ালে বিদেশি শক্তির সঙ্গে আপস করছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেখানে ইসলামের স্বার্থ নেই, দেশের স্বার্থ নেই, সেখানে আমেরিকার সঙ্গে গোপনে বৈঠক, ভারতের সঙ্গে গোপনে বৈঠক চলছে।
মুফতি ফয়জুল করীম প্রশ্ন তোলেন, “বৈঠক যদি দেশের স্বার্থেই হয়, তবে তা গোপনে কেন করতে হবে?” তিনি মন্তব্য করেন, বিদেশি প্রভুদের ওপর নির্ভরতার কারণে এসব দলের ওপর আস্থা রাখা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।

বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনেন মুফতি ফয়জুল করীম। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের মার্কিন দূতাবাসে গিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ‘উগ্রবাদী’ ও ‘জঙ্গি’ সংগঠন হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনের কোনো নেতাকর্মীকে জঙ্গি বা উগ্রবাদী হিসেবে প্রমাণ করার ইতিহাস নেই। অথচ জামায়াত নেতা বিদেশি দূতাবাসে গিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে জাতি ও দলকে কলঙ্কিত করার হীন চেষ্টা করেছেন। আমরা একে ঘৃণাভরে ধিক্কার জানাই ও প্রত্যাখ্যান করছি।”

দলের ভাবমূর্তি তুলে ধরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দাবি করেছে, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত তাদের দলের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। বক্তা উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সংস্থার জরিপে একমাত্র ইসলামী আন্দোলনকেই ‘দুর্নীতিমুক্ত’ ও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বনকারী রাজনৈতিক দল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অন্যান্য দলের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্যের অভাব এবং বিদেশি শক্তির ওপর অতি-নির্ভরশীলতার কারণে কোনো জোটে না যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে দলটি। ইসলাম ও মানবতার পক্ষে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করতে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপস না করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মুফতি ফয়জুল করীম।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি ঘোষণা দেন, “যাদের নিজেদের মধ্যেই ঐক্য নেই, তাদের সঙ্গে থাকলে জাতি ধোঁকা খাবে। তাই আমরা এককভাবে ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে ২৫৮টি আসনে নির্বাচনের মাঠে লড়াই করছি।

সম্পৃক্ত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button