
ফৌজিয়া আক্তার | সদরপুর, ফরিদপুর: ফরিদপুরের সদরপুরে বসতঘরের জানালা ভেঙে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এই পৈশাচিক ঘটনায় গত তিন দিনে পুলিশ ও এলাকাবাসীর তৎপরতায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে ১০ থেকে ১৫ জনের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ভুক্তভোগীর বসতবাড়ি ঘেরাও করে। একপর্যায়ে তারা ঘরের জানালা ভেঙে ওই স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এসময় স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখায়। পরে কিশোরীকে পাশের একটি গ্রামের পুকুরপাড়ে নিয়ে তিন যুবক মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় ওই কিশোরীকে তার নিজ বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ধর্ষকরা। এ সময় এলাকাবাসী টের পেয়ে তাদের ধাওয়া করে। স্থানীয়দের সাহসিকতায় একটি মোটরসাইকেলসহ দুই দুর্বৃত্তকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। আটককৃত দুই আসামি হলো— একই গ্রামের ইসলাম মৃধার ছেলে হেলাল মৃধা (২১) এবং মৃত টিটু শিকদারের ছেলে রইস শিকদার (১৫)।
এ ঘটনায় শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে সদরপুর থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার সূত্র ধরে শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে সদরপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত রনি বেপারি (২২) নামে আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করে। রনি স্থানীয় লাবলু বেপারির ছেলে। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে।
সার্বিক বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ্ জানান, “স্কুলছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে কঠোর আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।




