
কাজী নূরনবী নাইস, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় শহিদুল ইসলাম (৪৭) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে সাপাহার থানা পুলিশ।
নিহত শহিদুল ইসলাম উপজেলার গোয়ালা ইউনিয়নের খরিবোন গ্রামের মৃত আমির আলীর ছেলে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে একটি পক্ষের সঙ্গে শহিদুল ইসলামের পূর্ববিরোধ চলছিল। সেই শত্রুতার জেরে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার গোয়ালা ইউনিয়নের লক্ষীতলা গ্রামে প্রতিপক্ষের লোকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠি, রড ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে শহিদুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় তিনি গুরুতর জখম হন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শহিদুলের মা মোসা. বৈইফুল খাতুন বাদী হয়ে সাপাহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে সাপাহার থানা পুলিশ দ্রুততম সময়ে অভিযান পরিচালনা করে। রাতেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন— উপজেলার গোয়ালা মাসনাতলা গ্রামের মৃত ইয়াহিয়া’র ছেলে মো. মতিবুর ইসলাম (৫৫), মৃত নজর আলী মন্ডলের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (৭০), মতিবুর ইসলামের ছেলে মো. আল মামুন (২০), গোয়ালা খরিবনা গ্রামের মো. মজিবর রহমানের ছেলে মো. আব্দুর রায়হান (২০) এবং মো. শফিকুল ইসলাম।
সাপাহার থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।




