অবহেলায় জীর্ণ আহ্সানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন: সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় প্ল্যাটফর্ম, চরম ঝুঁকিতে হাজারো যাত্রী

মোজাক্কেরুল ইসলাম  (আত্রাই) নওগাঁ: নওগাঁর আত্রাই উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র আহ্সানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই স্টেশনের পুরো প্ল্যাটফর্ম পানিতে তলিয়ে যায়। টিনের ছাউনির বড় বড় ছিদ্র দিয়ে অনবরত ঝরতে থাকে পানি। ফলে প্রতিদিন এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াতকারী হাজারো যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্টেশনের অবকাঠামো একেবারেই ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আফজাল উদ্দিন জানান, বহু বছর আগে নির্মিত স্টেশনের ছাউনির টিনগুলো মরিচা ধরে ক্ষয়ে গেছে। নিয়মিত সংস্কার না হওয়ায় কাঠামোর বিভিন্ন অংশ নড়বড়ে হয়ে পড়েছে, যা যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। আরেক বাসিন্দা জাহিদুর রহমান বলেন, “প্ল্যাটফর্মের সিমেন্টের ঢালাই উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ট্রেনে ওঠানামা করতে গিয়ে যাত্রীরা প্রায়ই হোঁচট খেয়ে আহত হচ্ছেন।

স্টেশনে পর্যাপ্ত বসার জায়গা না থাকায় ট্রেনের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীদের, বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তমিজ উদ্দিন নামের এক যাত্রী জানান, বসার ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেককে দাঁড়িয়ে বা ভেজা মেঝেতে বসে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এছাড়া ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর স্টপেজ (যাত্রাবিরতি) না থাকায় এলাকার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও রোগীদের জরুরি যাতায়াতে চরম বিঘ্ন ঘটছে।

নিয়মিত যাত্রী রতন মোল্লা আক্ষেপ করে বলেন, “গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করছি, কিন্তু অবস্থার তেমন কোনো উন্নয়ন দেখলাম না।” ব্যবসায়ী আতিক রহমানের মতে, দেশের বিভিন্ন স্টেশনে যাতায়াতের অভিজ্ঞতা থাকলেও আহ্সানগঞ্জ স্টেশনের মতো এমন অবহেলা তিনি আর কোথাও দেখেননি। আতাউল গনি নামের আরেক যাত্রী জানান, একদিন বৃষ্টির সময় প্ল্যাটফর্মে পানি জমে রীতিমতো স্রোতের সৃষ্টি হয়েছিল। বাধ্য হয়ে যাত্রীদের প্রায় এক ঘণ্টা বৃষ্টিতে ভিজে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। ছাউনির অবস্থা দেখলেই বোঝা যায়, বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

এ বিষয়ে আহ্সানগঞ্জ স্টেশনের স্টেশন মাস্টার সুব্রত কুমার দাস বলেন, “স্টেশনের এই বেহাল দশার কথা এবং সমস্যাগুলো একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বারবার আবেদন ও বার্তা পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

তিনি আরও জানান, এই স্টেশনটি শুধু আত্রাই নয়, বরং আশপাশের নন্দীগ্রাম, কালীগঞ্জ, বাঘমারা ও ভবানীগঞ্জসহ প্রায় ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরবর্তী এলাকার যাত্রীরাও নিয়মিত ব্যবহার করেন।
এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবায় এই স্টেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে পুরো অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা আজ ব্যাহত হচ্ছে। এলাকাবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের জোর দাবি—দ্রুত প্ল্যাটফর্ম সংস্কার, টেকসই নতুন ছাউনি নির্মাণ, পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা এবং ঢাকাগামী সকল আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ নিশ্চিত করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আগামীতে যাত্রীদের দুর্ভোগ যেমন আরও বাড়বে, তেমনি বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

সম্পৃক্ত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button