
শিবলী সাদিক রাজশাহী:পবা উপজেলা হচ্ছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। পবা উপজেলা সিটি কর্পোরেশনকে চারিদিক দিয়ে ঘিরে রেখেছে। এজন্য এই উপজেলা কে সিটি কর্পোরেশনের আদলে গড়ে তোলা হবে। শনিবার সকালে পবা উপজেলার আয়োজনে কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন পবা হচ্ছে একটি সম্ভাবনাময় উপজেলা। এই উপজেলার মাঠে সকল ধরনের ফসল উৎপাদিত হয়। এছাড়া এখানকার আম খুব প্রসিদ্ধ। এছাড়াও উৎপাদিত মাছেরও সুনাম রয়েছে দেশব্যাপী। এগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি আরো বলেন, জনগণের অর্থে পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ রাখা হবে না। সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হবে বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। উন্নয়ন প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কঠোর নজরদারি ও কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়াও সভায় উন্নয়ন রোডম্যাপ প্রণয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি সম্প্রসারণ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। পবা উপজেলার ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে এমপি মিলন বলেন, রাজশাহী বিভাগীয় শহরের সন্নিকটে অবস্থিত হওয়ায় এ উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রম পুরো জেলার ওপর প্রভাব ফেলে। কাটাখালি ও নওহাটা—দুটি পৌরসভা এবং আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ অঞ্চল কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে সমৃদ্ধ। তাই এখানে পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
উন্নয়নের স্বার্থে একজোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,“বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এখন সময় এসেছে সেই চর্চা থেকে বেরিয়ে এসে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার। তিনি বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের তরুণরা নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তাদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এছাড়া তিনি পবা উপজেলা হল রুমে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করে বক্তব্য রাখেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত আমান আজিজ। তিনি বলেন, উন্নয়নই হবে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সুশাসন ও সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। উপজেলার প্রতিটি দপ্তরের কাজের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে এবং মাঠপর্যায়ে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করে জনগণের সেবাকে অগ্রাধিকার দিতে সকল কর্মকর্তার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি কার্যকর উন্নয়ন রোডম্যাপ প্রণয়ন করে তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কথাও উল্লেখ করেন।
এসময় বক্তব্য রাখেন, হড়গ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, আরএমপি এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাছুমা মুস্তারি, উপজেলা প্রকৌশলী মকবুল হোসেন, পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এমএ মান্নান, বিআরডিবি কর্মকর্তা শামসুন্নাহার সহ উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য ও নওহাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান, জেলা যুবদলের সদস্য ইফতেখারুল ইসলাম ডনি, ও পবা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান হাফিজ সহ সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




