
আব্দুল্লাহ আল মামুন | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬: টেকসই উন্নয়নে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি ও জ্বালানি খাতে সুশাসন নিশ্চিতের দাবিতে মাদারীপুরে পালিত হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক ক্লিন এনার্জি দিবস-২০২৬’। দিবসটি উপলক্ষ্যে গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় মাদারীপুর প্রেসক্লাবের সামনে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), মাদারীপুরের উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) অনুপ্রেরণায় আয়োজিত এই মানববন্ধনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল— ‘টেকসই উন্নয়নে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সুশাসন’।
মানববন্ধনে বক্তারা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ধাবিত হওয়ার আহ্বান জানান। এতে সনাক সদস্য, ইয়েস গ্রুপ, অ্যাকটিভ সিটিজেন গ্রুপ (এসিজি), শিক্ষার্থী, স্কাউট, বিভিন্ন পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাসহ প্রায় শতাধিক নাগরিক অংশ নেন।
সমাবেশে সনাক মাদারীপুরের সভাপতি খান মো. শহীদ বলেন, ‘‘আমরা আজ দ্বিতীয়বারের মতো ‘আন্তর্জাতিক ক্লিন এনার্জি দিবস’ পালন করছি। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও টেকসই বাংলাদেশ গড়তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং এই খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি।’’
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন সনাক সহ-সভাপতি এনায়েত হোসেন নান্নু, আন্না আক্তারসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। বক্তারা উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৬ জানুয়ারিকে ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে অব ক্লিন এনার্জি’ হিসেবে ঘোষণা করে, যার মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করা।
টিআইবির ৯ দফা সুপারিশ:
দিবসটি উপলক্ষ্যে জ্বালানি খাতে সুশাসন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির রূপান্তরে টিআইবি ৯টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরে। মানববন্ধনে সুপারিশ সম্বলিত একটি ধারণাপত্রও বিলি করা হয়। উল্লেখযোগ্য সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. রাজনৈতিক দলগুলোকে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার অঙ্গীকার করতে হবে এবং ‘এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার সেক্টর মাস্টার প্ল্যান (ইপিএসএমপি) ২০২৫’ চূড়ান্ত করার আগে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে হবে।
২. ২০৫০ সালের মধ্যে ‘নেট-জিরো’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একটি স্বাধীন তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন করা।
৩. টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (স্রেডা) স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেওয়া।
৪. নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৫-সহ সকল পরিকল্পনায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ প্রণয়ন।
৫. শিল্প ও আবাসিক গ্রাহকদের জন্য নেট মিটারিং ব্যবস্থা সহজ করা ও প্রণোদনা প্রদান।
৬. বাতিল হওয়া কয়লা ও এলএনজি বিদ্যুৎ প্রকল্পের জমিতে সোলার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা।
৭. জ্বালানি খাতের সকল চুক্তি ও প্রকল্প প্রস্তাবের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদানে কঠোর তদারকি করা।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা জানান, টিআইবির এই উদ্যোগ বাংলাদেশে দুর্নীতিমুক্ত ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




