খালেদা জিয়ার বিদায়ে শোকার্ত দেশ: ‘মানুষের ভালোবাসা বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করবে’

আব্দুল্লাহ আল মামুন: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গত মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর পর বুধবার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হয়। এই বিয়োগান্তক পরিস্থিতিতে দলটির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, খালেদা জিয়ার প্রতি জনগণের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা আগামী দিনে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করবে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ছারছিনার পীর মাওলানা মুফতি শাহ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমাদ হুসাইনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, “খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা, তা বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করবে। দেশ ও মাটির প্রতি আমাদের নেত্রীর যে ভালোবাসা, তা সবাইকে আলোড়িত করেছে। তিনি আজীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়েছেন, কারাভোগ করেছেন, কিন্তু কখনো আপস করেননি বা দেশ ছেড়ে যাননি।”
আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশের স্বপক্ষের শক্তি বিএনপিকে বিজয়ী করবে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বেই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র সুসংহত হবে।
সংস্কার কাজের জন্য সাময়িক বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সকাল থেকেই হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ বিজয় সরণি মোড়ে ভিড় করেন। সমাধিস্থল খুলে দেওয়ার পর মানুষের ঢল নামে সেখানে। পুরো এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন।
সকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা জানাতে জিয়া উদ্যানে আসেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। তিনি মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করেন। সাংবাদিকদের বাবর বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপসহীন ছিলেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তিনি কখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করতে দেননি। অন্যায় করলে দলীয় নেতাকর্মীদেরও তিনি ছাড় দিতেন না।
বুধবার বিকেলে মায়ের দাফন সম্পন্ন করার পর অত্যন্ত বিমর্ষ অবস্থায় গুলশানের বাসায় ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে তিনি যখন বাসায় ফেরেন, তখন তার চোখেমুখে ছিল গভীর শোকের ছাপ। দিনভর জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতায় তাকে অত্যন্ত সংযত ও বিমর্ষ দেখা যায়।
উল্লেখ্য, গত বুধবার বিকেল ৩টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে মরহুমার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মানুষের ঢল নামে। এরপর বিকেল পৌনে ৫টায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় ৭৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি রাজনৈতিক নেত্রী।
দেশজুড়ে বর্তমানে বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তার জন্য দোয়া ও মোনাজাত অব্যাহত রয়েছে। দলটির নেতাকর্মীরা মনে করছেন, খালেদা জিয়ার আদর্শকে পাথেয় করেই তারা আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button